বদনজর থেকে সুরক্ষার জন্য রাসূল ﷺ শেখানো গুরুত্বপূর্ণ দোয়া
নজর বা বদনজর ইসলামের দৃষ্টিতে একটি বাস্তব বিষয়। আল্লাহর হুকুমে বদনজরের কারণে মানুষের শারীরিক, মানসিক ও আত্মিকভাবে কষ্ট হতে পারে। এ কারণে একজন মুমিনের উচিত বদনজর থেকে নিজেকে ও নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার জন্য কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর নির্দেশনা মেনে চলা।
বদনজর থেকে সুরক্ষার জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দোয়া শিখিয়েছেন। তিনি নিজে তাঁর দৌহিত্র হাসান ও হুসাইন (রাঃ)-এর জন্য এই দোয়া পড়তেন এবং তাঁদের ওপর ফুঁ দিতেন।
হযরত ইবরাহিম (আঃ) তাঁর সন্তানদের জন্যও অনুরূপভাবে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন বলে সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে।
বদনজর থেকে সুরক্ষার সেই দোয়া
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَّهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَّامَّةٍ
উচ্চারণ:
আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইত্বানিওঁ ওয়া হাম্মাতিওঁ, ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ।
অর্থ:
“আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে আশ্রয় চাই, প্রত্যেক শয়তান, প্রত্যেক বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর বদনজর থেকে।”
📖 সহীহ বুখারী: ৩১৯১
এই দোয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাসনূন দোয়া। তাই শুধু বদনজরের আশঙ্কা হওয়ার পর নয়, বরং নিয়মিত আমলের অংশ হিসেবেও এটি পড়া যেতে পারে।
কীভাবে আমল করবেন?
আপনি নিজের জন্য এবং সন্তানদের জন্য এই দোয়াটি পড়তে পারেন।
✅ সকাল ও সন্ধ্যায় নিয়মিত পড়ুন।
✅ নিজের ওপর পড়ার সময় নিজের শরীরে বা মাথায় হাত রেখে দোয়া করতে পারেন।
✅ সন্তানদের মাথায় বা শরীরে হাত রেখে দোয়াটি পড়ে ফুঁ দিতে পারেন।
✅ সন্তান ছোট হলে বাবা-মা তার জন্য এই দোয়া পড়ে ফুঁ দিতে পারেন।
✅ দোয়া পড়ার সময় অন্তরে বিশ্বাস রাখুন, প্রকৃত হেফাজতকারী একমাত্র আল্লাহ তাআলা।
বদনজর থেকে বাঁচতে তাবিজ-কবচের প্রয়োজন নেই
বদনজরের ভয় থেকে অনেক মানুষ তাবিজ-কবচ, বিভিন্ন সুতা, পাথর, মাদুলি বা প্রচলিত কুসংস্কারের আশ্রয় নেন। অথচ একজন মুসলমানের উচিত এসবের পরিবর্তে আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ শেখানো দোয়া ও আমলগুলোকে নিজের জীবনের অংশ করে নেওয়া।
সুরক্ষা কোনো বস্তু বা তাবিজের হাতে নয়। সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর।
তাই নিজের সন্তানকে বদনজর থেকে রক্ষা করার জন্যও অজানা কোনো তাবিজ বা কুসংস্কারের আশ্রয় না নিয়ে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আমল করুন।
সন্তানদের জন্য বিশেষভাবে আমল করুন
সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় একটি আমানত। তাদের সুস্থতা ও নিরাপত্তার জন্য বাবা-মায়ের নিয়মিত দোয়া করা উচিত।
বিশেষ করে শিশুরা যখন ছোট থাকে, তখন তাদের জন্য সকাল-সন্ধ্যার আমল এবং বিভিন্ন মাসনূন দোয়া পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
সন্তানের সৌন্দর্য, মেধা, সাফল্য বা কোনো ভালো বিষয় দেখে প্রশংসা করার সময় আল্লাহকে স্মরণ করুন এবং তার জন্য বরকতের দোয়া করুন।
কারও কোনো ভালো কিছু দেখে ঈর্ষা না করে আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের প্রশংসা করা এবং অন্যের জন্য বরকতের দোয়া করা একজন মুসলমানের উত্তম আচরণের অংশ।
বদনজরের আশঙ্কা হলে কী করবেন?
বদনজরের কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে হলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রথমে আল্লাহর ওপর ভরসা করুন এবং কুরআন ও সুন্নাহর আমল শুরু করুন।
আয়াতুল কুরসি, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাসসহ অন্যান্য মাসনূন আমল নিয়মিত করুন। প্রয়োজনে শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ গ্রহণ করুন।
তবে কোনো শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা থাকলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও গ্রহণ করতে হবে। কারণ সব ধরনের অসুস্থতাকে বদনজরের কারণে হয়েছে বলে ধরে নেওয়া সঠিক নয়।
যদি বদনজরের পাশাপাশি জ্বিন বা জাদুর সমস্যারও আশঙ্কা থাকে এবং সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর হয়, তাহলে দেরি না করে অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত রাক্বীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
আল্লাহই আমাদের প্রকৃত রক্ষাকারী
বদনজর থেকে বাঁচার সবচেয়ে বড় উপায় হলো আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা এবং তাঁর শেখানো পথে চলা।
নিয়মিত নামাজ পড়ুন, কুরআন তিলাওয়াত করুন, সকাল-সন্ধ্যার যিকির করুন, মাসনূন দোয়া পড়ুন এবং নিজের ও পরিবারের জন্য আল্লাহর কাছে হেফাজত প্রার্থনা করুন।
তাবিজ-কবচ নয়, কুসংস্কার নয়, অজানা কোনো পদ্ধতিও নয়।
বরং আল্লাহর ওপর ভরসা, কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আমল এবং শরিয়তসম্মত রুকইয়াহর মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করুন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বদনজর, জাদু, জ্বিন ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন। আমাদের সন্তানদের সুস্থতা, নিরাপত্তা ও ঈমানের ওপর অটুট রাখুন। আমিন।
📩 বদনজর, জাদু, জ্বিন বা রুকইয়াহ সম্পর্কিত কোনো সমস্যা থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
লাব্বাইক রুকইয়াহ সেন্টার
“কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে জ্বিন, জাদু ও বদনজরের চিকিৎসা”
সম্পর্কিত আর্টিকেল
সমস্যায় আছেন?
আজই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন বা আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।